নবাবগঞ্জ (ঢাকা) উপজেলা প্রতিনিধি: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইছামতি নদীর বিরুপ প্রভাত থেকে বাঁচতে ইছামতি নদীর কচুরিপানা অপসারণ কমিটি দুই দফা দাবি করেছেন। বুধবার উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের খানেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানায় কমিটির নেতৃবৃন্দ।
ইছামতি নদীর কচুরীপানা অপসারণ কমিটির সমন্বয়ক মো. রাশিম মোল্লার সঞ্চালনায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও চার ইউনিয়নের নদীপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা বলেন, এক সময়ের স্রোতস্বিনী ইছামতি এখন মৃতপ্রায়। এ নদীর সাথে কয়েক লাখ মানুষের জীবিকার সম্পৃক্ততা রয়েছে। কিন্তু পানির প্রবাহ স্থবির হওয়া, দখল, দূষণ ও কচুরিপানায় ভরে যাওয়ায় এ নদীর পানি এখন আর মানুষের উপকারে আসে না।
আলোচকরা মনে করেন নদীপাড়ের মানুষ ও সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী যদি তার এলাকার কচু অপসারণ করেন, তাহলে সহজেই এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। বক্তারা এই সমস্যার সমাধানে এলাকার বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। আলোচনা শেষে অতিথিরা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে নদীটির বর্তমান অবস্থা দেখেন।
ইছামতির কচুরীপানা অপসারণ কমিটির সমন্বয়ক রাশিম মোল্লা বলেন, বর্তমানে নবাবগঞ্জের ইছামতি নদীতে কচুরিপানা নেই বললেই চলে। দুই তিন মাস পরেই নদী কচুরিপানায় আটকে যাবে। পচতে শুরু করবে পানি। প্রতিবছরই এর বিরুপ প্রভাবের শিকার হচ্ছেন জনসাধারণ। বিশেষ করে উপজেলার নদী তীরবর্তী মানুষগুলোকে দুর্বিষহ কষ্ট পোহাতে হয়। আমরা এই সমস্যার নিরসন চাই। তিনি বলেন, এক সময়ের ইছামতি এখন মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। হারিয়েছে স্বাভাবিক নাব্যতা, দূষণ আর দখলে নাস্তানাবুদ। কচুরিপানায় গ্রাস করেছে ছলাৎ ছলাৎ চলার ছন্দ। তবুও অবলা ইছামতি জানান দেয় নিঃসঙ্কোচে চলার অপারগতা। ভরা বর্ষায় নদীতে পানি থাকলেও গ্রীষ্মে যেন মরা খাল। নদীর পাড়ে গড়ে উঠা হাট-বাজারের সব বর্জ নদীতেই ফেলা হচ্ছে।
এমনকি ক্লিনিকের বিষাক্ত বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে নদীতে। গত কয়েক বছর ধরে উৎসব ছড়ানো নৌকাবাইচের মতো অনুষ্ঠান হতে পারছে না। ইছামতি রক্ষায় কাজ করছে কয়েকটি সামাজিক সংগঠন। প্রতি বছরই দখল-দূষণের হাত থেকে রক্ষার জন্য মানববন্ধনসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করে আসছে
Notifications